সেনা কর্তৃত্ব অটুট এবং বাহিনীর সদস্যদের পদোন্নতি কঠোর করে নতুন করে প্রায় আগের চেহারাই নিচ্ছে বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী।
স্বরাষ্ট্র সচিব আবদুস সোবহান সিকদার বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বাহিনীটির জন্য প্রস্তাবিত নতুন আইন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন, ২০০৯ চূড়ান্ত হয়েছে।
নতুন আইনে বাহিনীর নের্তৃত্ব পর্যায়ে পরিবর্তনের কথা বলা নেই। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদেরই নিয়ন্ত্রণে চলেছে বাহিনীটি। এই পর্যায়ে পরিবর্তনের কোনো প্রস্তাব করা না হলেও বাহিনীর নিয়মিত সদস্যদের আগের সর্বোচ্চ পদ ডেপুটি এসিসট্যান্ট ডিরেক্টর (ডিএডি) বিলুপ্ত করার প্রস্তাব রয়েছে খসড়ায়।
গতবছর ২৫-২৬ ফেব্র”য়ারি পিলখানা হত্যাযজ্ঞে অর্ধশাধিক সেনা কর্মকর্তা প্রাণ হারায়। ওই সময়ে একজন ডিএডি’র নেতৃত্বে বিদ্রোহ হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন ডিএডি মোহাম্মদ তৌহিদসহ অনেকেই এখন বিচারের কাঠগড়ায়।
বিদ্রোহের গণমাধ্যমে বিডিআর সদস্যরা সেনা কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।
বাহিনীর উপ-মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ওবায়দুল হক বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এডি, ডিএডিসহ কিছু পদের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব পদে আগে সহজেই পদোন্নতি পাওয়ার সুযোগ থাকতো। নাম পরিবর্তনের সঙ্গে শর্ত জুড়ে দিয়ে পদোন্নতি কঠোর করা হয়েছে। আগে যেমন বিডিআর সদস্যরা এসব পদে পদোন্নতি পেয়ে আসতেন এখনো তারাই আসবেন। তবে এসব পদে আসতে ন্যূনতম যোগ্যতাসহ যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া কঠোরতর হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, বাহিনীর কমান্ড কাঠামোকে সুসংহত করতে বাহিনীর সদর দপ্তরের অধীনে আঞ্চলিক সদর দপ্তর নামে নতুন একটি কমান্ড স্তর সৃষ্টি করা হয়েছে। যার অবস্থান সেক্টর সদর দপ্তরের উপরে থাকবে। কমান্ডে বরাবরের মতোই সেনা কর্মকর্তারাই থাকবে।
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ রাইফেল্স’ বাহিনীর নাম ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ নামে অভিহিত হবে।
এ সপ্তাহেই তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রসচিব বলেন, ইতোমধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে সব ধরনের মতামত সংযুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর তা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
নতুন আইনে শৃঙ্খলামূলক অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড-এর বিধান রেখে বর্ডার গার্ড আদালতের দেওয়া দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগও দেওয়া হয়েছে। এই সুযোগ শৃঙ্খলাবাহিনীর আইনের ক্ষেত্রে নতুন বিধান।
বিডিআর অর্ডার, ১৯৭২-এ স্পেশাল কোর্টের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সাত বছর এবং স্পেশাল সামারি কোর্টের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দুই বছর শাস্তির বিধান রয়েছে। এছাড়াও সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ চাকরি থেকে বরখাস্ত ও লঘুশাস্তির বিধান আছে।
গত বছরের ফেব্র”য়ারির রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহ ও হত্যাযজ্ঞের পর সাবেক সচিব এম আনিস-উজ জামানের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিশন করে সরকার। তদন্ত কমিশনের ২৭ মে প্রতিবেদনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে বিডিআর পুনর্গঠনে হাত দেওয়া হয়।
এরই অংশ হিসেবে বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মইনুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি বিজিবি আইনের খসড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে জমা দেয়।
বিডিআর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগের পোশাকের পরিবর্র্তে প্রস্তাবিত পোশাক পরে বিডিআর শীর্ষ কর্মকর্তা অফিসও করছেন।
স্বাধীনতার আগে বাহিনীর নাম ছিল ইস্ট পাকিস্তান রাইফেল্স। বাংলাদেশ রাইফেল্স অর্ডার, ১৯৭২-এর আওতায় বিডিআর তথা বাংলাদেশ রাইফেল্স বাহিনী গঠিত হয়।
Source: Click Here
Share on Facebook